পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য

হ্যালো বন্ধুরা আজকের পোস্টে জানতে পারবেন পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্য পার্থক্য কি কি? এবং পেশাদার লাইসেন্স দিয়ে কি কি কাজে ব্যবহার করা যায়? অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে কি কি কাজে ব্যবহার করা যায়? এই সকল বিস্তারিত বিষয়ে আপনি জানতে পারবেন।

আপনি যদি ভাবেন আপনি একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই পূর্ববতী আগেই জেনে নিতে হবে কোন লাইসেন্সে কোন ধরনের কাজ এবং কিসে ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলো জানা না থাকলে পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শিখে ফ্রি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যাতায়াতে ভাতা

ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার

বর্তমান বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দুই প্রকার যথা পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর অর্থ হল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স যাহা দ্বারা কোন ব্যক্তি একজন বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে মোটরযান বা গণপরিবহন চালাইবার অধিকারী হন। অর্থাৎ আপনি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে যেকোনো গাড়ি চালাতে পারবেন।

কারা পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য

  • ১. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণীর পাস হতে হবে।
  • ২. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নূন্যতম ২১ বছর বয়স হতে হবে।
  • ৩. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্রার্থীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর সুবিধা

  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আপনি দেশে-বিদেশে, সরকারি-বেসরকারি সহ কোন প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভিং চাকরি করতে পারবেন।
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আপনি মধ্যম অথবা ভারী পরিবহন গুলো চালাতে পারবেন।
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর অসুবিধা
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ থাকে ৫ বছর।
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আপনাকে অবশ্যই মেডিকেল টেস্ট করতে হবে।

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়ন করতে প্রতি পাঁচ বছর পর পর আপনাকে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। হঠাৎ আপনি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স যতবারই নবায়ন করবেন ততবারই আপনাকে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি

কতৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স যাহা একজন চালক কারো বেতনভোগী কর্মচারী না হয়ে মোটরসাইকেল এবং হালকাযান চালাতে পারে তাকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে। অর্থাৎ আপনি যদি শুধুমাত্র নিজস্ব গাড়ি চালাতে চান তাহলে কিন্তু আপনি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারেন। তবে এই অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আপনি কারণ বেতনভোগী হয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।

কারা অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের শর্ত কি কি পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য:

  • ১. অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাস হতে হবে।
  • ২. অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হইলে ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হতে হবে।
  • ৩. প্রার্থীকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর সুবিধা

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ থাকে ১০ বছর যেটি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের দ্বিগুণ।

  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কোন প্রকার মেডিকেল টেস্ট করতে হয় না। এতে আপনার কিছু টাকা বেঁচে যাবে।
  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার জন্য কোন প্রকার দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয় না।
  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর শুধুমাত্র একবারই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এবং পরবর্তীতে শুধুমাত্র নবায়ন ফি জমা দিলেই মেয়াদ বেড়ে যাবে।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর অসুবিধা

  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আপনি কোনো প্রকার ড্রাইভিং চাকরি করতে পারবেন না।
  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আপনি শুধুমাত্র হালকাযান চালাতে পারবেন কিন্তু ভারী যেমন পরিবহন চালাতে পারবেন না।
  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে কি রাইড শেয়ারিং করা যাবে

দেখুন বর্তমানে সকলেরই নিজস্ব মোটরসাইকেল বা হালকাযান রয়েছে নিজের পাশাপাশি তারা কিন্তু রাইট শেয়ারিং করে আয় করতে চায় এবং বাংলাদেশে পাঠাও র মত অনেক কোম্পানি রয়েছে যেখানে আপনি মালামাল, রাইড শেয়ারিং করে অথবা উপার্জন করতে পারবেন। তাই বিআরটিএ নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছে তাদের একটি শর্তবলী অনুযায়ী আপনি নিজের চাহিদা মিটিয়ে নিজস্ব মোটরসাইকেল বা যান দিয়ে কাজ করতে পারবেন।

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য তো বন্ধুরা আপনি যদি সম্পূর্ণ আমার পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি বুঝতে পারছেন কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কতটুকু ক্ষমতা রয়েছে। পরবর্তী আরো ইনফরমেশন পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করে রাখুন।

পেশাদার অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: এক নজরে মূল পার্থক্যসমূহ

পাঠকদের সুবিধার্থে পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল পার্থক্যগুলো নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো, যাতে খুব সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারা যায় পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সঅপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স
ন্যূনতম বয়স২১ বছর১৮ বছর
লাইসেন্সের মেয়াদ৫ বছর১০ বছর
উদ্দেশ্যবাণিজ্যিক বা চাকরি করার জন্যব্যক্তিগত বা নিজস্ব গাড়ি চালানোর জন্য
মেডিকেল টেস্টপ্রতিবার নবায়নের সময় বাধ্যতামূলকসাধারণত প্রয়োজন হয় না
নবায়ন পরীক্ষাপ্রতিবারই দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা দিতে হয়কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ফি দিয়ে নবায়ন সম্ভব
গাড়ির ধরণহালকা, মাঝারি ও ভারী সব ধরণের যানশুধুমাত্র হালকা যান ও মোটরসাইকেল

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কত প্রকার কি কি?

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স মূলত চালকের দক্ষতা এবং তিনি কোন ধরণের যানবাহন চালাবেন তার ওপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে বিভক্ত। বিআরটিএ (BRTA) অনুযায়ী পেশাদার লাইসেন্স সাধারণত নিচের তিন প্রকার হয়ে থাকে:

  • পেশাদার হালকা (Light): এই লাইসেন্স দিয়ে আপনি ৩,৫০০ কেজির নিচে ওজনের যেকোনো গাড়ি (যেমন: প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা) বাণিজ্যিকভাবে চালাতে পারবেন।
  • পেশাদার মধ্যম (Medium): হালকা লাইসেন্সের মেয়াদ ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আপনি মধ্যম বা মিডিয়াম লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এটি দিয়ে ৩,৫০০ থেকে ৭,৫০০ কেজি ওজনের যানবাহন (যেমন: মিনিবাস, ছোট ট্রাক) চালানো যায়।
  • পেশাদার ভারী (Heavy): মধ্যম লাইসেন্সের মেয়াদ ৩ বছর পূর্ণ হলে তবেই ভারী লাইসেন্সের আবেদন করা যায়। এই লাইসেন্সধারী চালকেরা বড় বাস, বড় ট্রাক, লরি বা ট্রেইলারের মতো ভারী যানবাহন চালাতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরাসরি কেউ পেশাদার ভারী বা মধ্যম লাইসেন্স ফ্রেশার হিসেবে আবেদন করতে পারেন না। প্রথমে হালকা লাইসেন্স দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করতে হয়।

অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে কি আসলেই কোনো আয় করা সম্ভব?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, অপেশাদার লাইসেন্স দিয়ে যেহেতু চাকরি করা যায় না, তাহলে কি এটি দিয়ে কোনো উপার্জনের সুযোগ নেই?

উত্তর হচ্ছে— সুযোগ আছে, তবে তা সীমিত। আপনি যদি উবার (Uber) বা পাঠাও (Pathao) এর মতো রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়ি দিয়ে রাইড শেয়ার করতে চান, তবে অপেশাদার লাইসেন্স দিয়েই তা সম্ভব। বিআরটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং অ্যাপে নিবন্ধন করে খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম আয় করায় কোনো আইনি বাধা নেই। তবে আপনি কোনো কোম্পানির অধীনে মাসিক বেতনে চালক বা ড্রাইভার হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবেন না পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য।

লাইসেন্স করার পূর্বে আপনার করণীয় কিছু জরুরি পরামর্শ

আপনি পেশাদার কিংবা অপেশাদার— যে লাইসেন্সই করতে চান না কেন, আবেদন করার পূর্বে কিছু বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: উভয় লাইসেন্সের জন্যই অন্তত অষ্টম শ্রেণী পাসের সার্টিফিকেট বা জেএসসি (JSC) সমমানের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। তাই আবেদনের আগেই সার্টিফিকেটের মূল কপি বা সত্যায়িত কপি প্রস্তুত রাখুন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর অবশ্যই এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড থাকতে হবে। এনআইডি কার্ডের তথ্যের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের তথ্যের মিল থাকা বাঞ্ছনীয়।
  • লার্নার বা শিক্ষানবিস লাইসেন্স: পেশাদার বা অপেশাদার মূল লাইসেন্স পরীক্ষার আগে আপনাকে অবশ্যই অনলাইনে ‘লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স’-এর জন্য আবেদন করতে হবে। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২ থেকে ৩ মাস পর আপনাকে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
  • সঠিক সিদ্ধান্ত নিন: আপনি যদি ভবিষ্যতে ড্রাইভিংকে পেশা হিসেবে নিতে চান বা বিদেশে (যেমন: মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে) ড্রাইভার হিসেবে যেতে চান, তবে চোখ বন্ধ করে পেশাদার লাইসেন্স করুন। আর যদি শুধু নিজের ব্যবহারের জন্য বা শখের বসে গাড়ি/বাইক চালাতে চান, তবে অপেশাদার লাইসেন্স করাই আপনার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য

একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আশা করি আজকের এই বিস্তারিত আলোচনার পর পেশাদার এবং অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আপনাদের মনের সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কিত নতুন কোনো আপডেট বা বিআরটিএ-এর যেকোনো নিয়মের পরিবর্তন সম্পর্কে সবার আগে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করে রাখুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ!

3 thoughts on “পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য”

Leave a Comment