পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার করার নিয়ম | ঘরে বসেই পরিবর্তন করুন লাইসেন্সের ধরন

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার

বর্তমান বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর চালু হয়েছে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পরিবর্তন। এখন আপনি খুব সহজেই পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

অনেকেই রয়েছে যারা ভুল করে প্রথম দিকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করে ফেলে। এবং তার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়ে গেলে তাকে প্রতি পাঁচ বছর পর পর পরীক্ষা দিতে হয় এবং ডোপ টেস্ট করতে হয়। যেটা প্রতিনিয়ত তার কাছে ঝামেলা মনে হবে। তাই এই ঝামেলা দূর করার জন্য অবশ্যই আপনাকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ধরন পরিবর্তন করবেন?

প্রথমে আপনাকে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারে যেকোনো ব্রাউজারে গিয়ে বিআরটিএ অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হবে। কিভাবে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এ বিষয় নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী একটি পোস্ট রয়েছে সেটি দেখতে পারেন। নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম

আপনার একাউন্ট খোলা হয়ে গেলে বা খোলা থাকলে আপনি সরাসরি আপনার ইউজার নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিবেন। অ্যাকাউন্ট লগ ইন করার পরে সরাসরি বিএসপি বিআরটিএ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এর হোমপেজে যাবেন।

লাইসেন্সে ধরুন পরিবর্তনের জন্য আবেদন করার নিয়ম

হোমপেজের উপরে বাম পাশে 3-Dot মেনুতে ক্লিক করুন।

তারপর “ড্রাইভিং লাইসেন্স” এই অপশন এ ক্লিক করুন ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

এরপর নিচে দেখুন ” ড্রাইভিং লাইসেন্স ধরন পরিবর্তন (পেশাদার থেকে অপেশাদার)” এই অপশন এ ক্লিক করুন।

এখন আপনাকে একটি পেজে নিয়ে আসবে সেই পেজে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পিছনে দেখবেন একটি রেফারেন্স নম্বর রয়েছে। এই ড্রাইভিং লাইসেন্স রেফারেন্স নম্বর নিচে টাইপ করে “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক করবেন।

যখন আপনার রেফারেন্স নম্বরটি সঠিক থাকবে তখনই আপনার সকল ইনফরমেশন পরবর্তী পেজে দেখাবে। এখানে যে সকল ইনফরমেশন আপনার থাকবে না সেগুলো আপনাকে লিখে দিতে হবে।

পেশাদার থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এ পরিবর্তন জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন

সেকশন বি এই অপশনে আপনার যে সকল কাগজপত্র ফাইল করে আপলোড করতে হবে তার সাইজ সর্বোচ্চ ৬০০ কেবির মধ্যে হতে হবে।

  • ১. জাতীয় পরিচয় পত্র এর স্ক্যান কপি (NID/Smart Card)
  • ২. আপনার যে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে তার স্ক্যান কপি।
  • ৩. আপনার অথবা আপনার পরিবারের ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করতে হবে যেমন হতে পারে গ্যাস/বিদ্যুৎ/ওয়াসা যেকোনো একটি দিলে হবে স্ক্যান কপি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ধরন এবং শ্রেণীর তথ্য সহ সকল তথ্য আপনি দেখতে পারবেন সেগুলো অবশ্যই যাচাই করে নিবেন।

এরপর নিচের দিকে আপনার পোস্ট অফিস সহ সকল ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করবেন। যেহেতু আপনার স্মার্ট কার্ড টি পোস্ট অফিসে আসবে সেহেতু অবশ্যই সঠিকভাবে আপনার ঠিকানাটি পূরণ করে নিবেন।

এরপর আপনার উপরের সকল ইনফরমেশন সঠিকভাবে দেওয়া হয়ে গেলে আপনি একটি নিচে “সংরক্ষণ করুন” এই বাটন পাবেন। সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করবেন ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

আপনার সকল ইনফরমেশন সঠিক থাকলে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স টাইপ পরিবর্তন application seved successful লেখা আসবে।

পেশাদার থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ধারণ পরিবর্তনের জন্য কত টাকা কি লাগে

আপনার পেশাদার থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ধরন পরিবর্তনের জন্য যে আবেদনটি করেছেন তার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে “ফি জমা দিন” এই অপশনে চলে আসবেন।

তারপর এখানে একটি তালিকা আপনি দেখতে পারবেন যে কত টাকা আপনার ফি জমা দিতে হবে। নিচের তালিকাটি দেখুন। এরপর আপনি যদি ফি জমা দিতে চান তাহলে নিচে ফি জমা দিন এই অপশনে ক্লিক করে যে কোন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে ফি জমা দিতে পারবেন ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

তো বন্ধুরা এভাবে আপনি খুব সহজেই পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর পরিবর্তন হতে পারবেন। Follow

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় অনেকেই অজান্তে বা ভুল তথ্যের কারণে পেশাদার (Professional) লাইসেন্স-এর জন্য আবেদন করে ফেলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন, যখন প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন করে ড্রাইভিং পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং লাইসেন্স নবায়নের দীর্ঘ ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য যেখানে একটি অপেশাদার (Non-Professional) লাইসেন্সই যথেষ্ট এবং যার মেয়াদ থাকে ১০ বছর, সেখানে পেশাদার লাইসেন্সের এই বাড়তি ঝামেলা প্রতিনিয়ত আমাদের ক্লান্ত করে তোলে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

আপনিও কি এই একই সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে একটি দারুণ সুখবর! বিআরটিএ (BRTA) এখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনলাইনে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সে রূপান্তর করার সুযোগ চালু করেছে। এখন কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে, ঘরে বসেই বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) এর মাধ্যমে আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। আজকের ব্লগে আমরা ধাপে ধাপে জানবো কীভাবে খুব সহজে আপনার লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তন করবেন এবং এর জন্য কী কী কাগজপত্র ও ফি লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় এখন বিআরটিএ-এর সেবা অনেকটাই সহজ ও গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে লাইসেন্সের ধরন পরিবর্তনের জন্য মাসের পর মাস সরকারি অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো, এখন তা ঘরে বসেই মাত্র কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই সম্ভব।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার আশা করি, আজকের গাইডটি দেখার পর আপনার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি অপেশাদারে পরিবর্তন করতে আর কোনো সমস্যা হবে না। ফরম পূরণ করার সময় অবশ্যই আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং পোস্ট অফিসের তথ্যটি নিখুঁতভাবে দেবেন, কারণ আপনার নতুন স্মার্ট কার্ডটি কিন্তু সরাসরি পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সে ট্রান্সফার আপনার যদি আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোনো ধাপে বুঝতে সমস্যা হয়, তবে নিচে কমেন্ট (Comment) করে আমাদের জানাতে পারেন। পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার (Share) করতে ভুলবেন না! নিরাপদ ড্রাইভিং করুন, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম ২০২৬-২০২৭ (নতুন নিয়ম)

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শিখে ফ্রি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যাতায়াতে ভাতা

পেশাদার ও অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মধ্যে পার্থক্য

Leave a Comment